সাদেক হুসাইন: Sadiq Hussain Books

Sadiq Hussain Books

সাদেক হুসাইন কর্তৃক রচিত ইসলামিক pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।
১। আফ্রিকার দুলহান
২। আরব দুহিতা
৩। তারিক ইবনে যিয়াদ
৪। পতনের ডাক
৫। বদর প্রান্তর
৬। ভারত অভিযান

লেখক পরিচিতিঃ আধুনিক উর্দু ঔপন্যাসিক ও ছোটগল্পকার সাদিক হুসাইন (১৯১৭-২০০৫) এর জীবনযাত্রা অত্যন্ত বিনম্রভাবে শুরু হয়েছিল। মাত্র দুই বছর বয়সে তিনি পিতাকে হারান এবং মায়ের স্নেহে বেড়ে ওঠেন। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন কনিষ্ঠ। তার জীবদ্দশায় বড় বোন ছাড়া বাকি সবাই মারা যান। একমাত্র পুত্র হিসেবে তাকে অল্প বয়সেই জীবনের দায়িত্ব নিতে হয়।

মাত্র ১০ বছর বয়সেই তিনি ছোটগল্প লেখা শুরু করেন। পরে রাওয়ালপিন্ডির গর্ডন কলেজে পড়াশোনা করেন।

সাদিক হুসাইন জানতেন, তার সৃজনশীল লেখনী পরিপক্ক হতে সময় লাগবে। ধৈর্য্য ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে তিনি লিখে গেছেন। তবে শীঘ্রই তিনি বুঝতে পারেন, শুধু লেখালেখি দিয়ে জীবিকা চালানো সম্ভব নয়। তাই তিনি ভারত সরকারের সিভিল সার্ভিসে (সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট) যোগ দেন।

কয়েক বছর পর তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগে বদলি হন। এই সময় তিনি কলকাতায় অবস্থানকালে বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন।

ভারত বিভাজনের পর তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন পদে পাকিস্তান সরকারের হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ৩০-এর দশকের মাঝামাঝি তিনি তার প্রথম প্রেম—লেখালেখিতে—ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে লাহোরের সাহিত্য পত্রিকা *নকূশ*-এ তার গল্প প্রকাশিত হয়। ‘বুফে’ শিরোনামে তার প্রথম প্রকাশিত গল্পটি স্থানীয় সাহিত্য জগতে তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং তাকে দেশজুড়ে প্রশংসা এনে দেয়। তাকে সমসাময়িক সময়ের একজন উৎকৃষ্ট ছোটগল্পকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সৈয়দ ভিকার আজিম ও *নকূশ*-এর সম্পাদক মোহাম্মদ তুফাইল (পরবর্তীতে যারা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হন) তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। *আদবি দুনিয়া*-র সম্পাদক মাওলানা সালাহউদ্দিন তাকে “উর্দু ছোটগল্পের মৃতপ্রায় ধারায় একটি প্রাণবন্ত সংযোজন” বলে আখ্যায়িত করেন। আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রশীদ আহমেদ সিদ্দিকীর মতে, “[হুসাইন] পাঠককে এমন অনুভূতি দেন যে তারা একজন ভালো মানুষ ও শিল্পীর লেখা একটি উৎকৃষ্ট গল্প পড়ছেন।”

১৯৫৩ সালে সাদিক হুসাইনকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রথম লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে করাচিতে বদলি করা হয়। দুই বছর পর তিনি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক উড হজে যোগ দিয়ে লাহোর চলে যান। পরবর্তীতে এমএ ইয়াহিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ২০০৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাথেই যুক্ত ছিলেন। ড. জামিল জালিবি, ড. সফদার মাহমুদ, ইন্তেজার হুসাইন, লাঈক আহমেদ ও ইবনে ইনশা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম।

সাদিক হুসাইন অল্পসংখ্যক গল্প লিখেছেন, কিন্তু সেগুলোই তাকে সমসাময়িক শীর্ষস্থানীয় লেখকদের সারিতে স্থান দিয়েছে। তিনি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো চিত্রিত করেছেন নিজস্ব শৈলীতে। তার গল্প পড়লে মনে হয় লেখকের চরিত্র ও বিষয়ের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তার গল্প পাঠকের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়।

তার প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘বুফে’ প্রতিটি পাঠককে স্পর্শ করেছিল। এ গল্পে তিনি চট্টগ্রাম ক্লাবের উচ্চবিত্ত সমাজের চিত্র এঁকেছেন, যা বিভাজনের আগে শুধু ইংরেজদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও পরে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়। ‘বুফে’ গল্পের কেন্দ্রে আছে হাফিজ নামের একজন সাধারণ মানুষ, যার টাকাপয়সা নেই কিন্তু ক্লাবের উচ্চবিত্ত জীবনের প্রতি তীব্র আকর্ষণ। পাকিস্তান উইমেন অ্যাসোসিয়েশন ক্লাবে একটি বুফে আয়োজন করলে হাফিজও ৫ টাকার টিকিট কিনে সেখানে যোগ দেয়। তার স্বপ্ন পূরণের আশায় আটকে থাকে। বুফের সময় ও পরের পরিবেশ বর্ণনা করে সাদিক হুসাইন গল্পের essence ফুটিয়ে তোলেন। তার বর্ণনা এতটা জীবন্ত যে পাঠক তৎক্ষণাৎ মূল চরিত্রের দুর্দশার সাথে একাত্মতা বোধ করে। গল্পের চরম মুহূর্তে ক্লাবের পরিবেশ হঠাৎ থেমে যায়। বুফে শেষ। হাফিজ তার পকেটে বাকি কয়েন খুঁজতে থাকে। এক, দুই, তিন… পরদিনের খাবারের জন্য এটি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে সে অনিশ্চিত। বুফে-পরবর্তী নিস্তব্ধতা গভীরভাবে মর্মস্পর্শী।

হুসাইনের গল্পের চরিত্ররা সমাজের নিম্নস্তর থেকে উঠে আসে। তারা সমাজের ‘বাস্তব’ মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রামের প্রতীক। তার গল্পের নায়করা সমাজের অসমতা মোকাবেলা করে উঠে দাঁড়ানো মানুষ। ১৯৬৩ সালে নকূশ প্রেস থেকে তার প্রথম গল্পসংকলন *ফুল্লোঁ কে মাহাল* প্রকাশিত হয়, যাতে ‘পহুঞ্চিয়ান’ (সোনার চুড়ি) ও ‘পাথেরা’ (ইট প্রস্তুতকারক) মতো মাস্টারপিস স্থান পায়।

এরপর ১৯৮৮ সালে *শেহর অন্দর শেহর* এবং ২০০৮ সালে *গুলাব কাই আনসু* প্রকাশিত হয়। শেষোক্ত সংকলনে নিপীড়িত মানুষের আত্মবিকাশের গল্প বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

তার তিনটি গল্পসংকলনের মধ্যে মাত্র দুটি তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়। ২০১২ সালে বুক হোম পাবলিশার্স *আফসানে-সাদিক হুসাইন* শিরোনামে তার মরণোত্তর গল্প প্রকাশ করে।

সাদিক হুসাইন দুটি উপন্যাস লিখেছেন—উর্দু ভাষায় *নয়া সাভেরা* এবং ইংরেজিতে *দ্য সান উইল রাইজ টুমরো*। উর্দু উপন্যাসটি ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়। তবে ইংরেজি উপন্যাসের চূড়ান্ত পান্ডুলিপি তিনি হারিয়ে ফেলেন।

আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ

error: Content is protected !!
Scroll to Top